ভাইফোঁটা (Bhai Fota) - কবিতা, তারিখ, নিয়ম, উপকরণ এবং ইতিহাস

ভাইফোঁটা (Bhai Fota)

ভাইফোঁটা (Bhai Fota) হলো বাঙালির একটি জনপ্রিয় উৎসব। বাঙালি তথা হিন্দু সনাতন ধর্মের সাথে যুক্ত বারো মাসে তেরো পার্বণ এর মধ্যে ভাইফোঁটা অন্যতম। ভাই ও বোনদের মধ্যে মেল বন্ধন এর পবিত্র উৎসব হলো ভাইফোঁটা।

দেশ ও বিদেশে ভাইফোঁটা বিভিন্ন নামে পরিচিত -

  • আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ভাইফোঁটা/ভাতৃদ্বিতিয়া নামে পালন করা হয়।
  • পশ্চিম ভারতে ভাইবীজ (Bhai Beej)
  • প্রতিবেশী রাজ্য অসমে ভাইটিকা (Bhai Tika)
  • প্রতিবেশী দেশ নেপালে ভাইদুজ (Bhai Dooj)
  • এছাড়াও উৎসবের আরো একটি নাম যমদ্বিতীয়া

ভাইফোঁটার কবিতা (Bhai Fota Quotes)

ভাইফোঁটার দিন বোনেরা তাদের ভাই বা দাদা দের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দিয়ে ভাই ফোটার মন্ত্র পড়ে এই বলে:
ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,
আমি দিই  আমার ভাইকে ফোঁটা।
যমুনার হাতে ফোঁটা খেয়ে যম হল অমর।
আমার হাতে  ফোঁটা খেয়ে আমার ভাই হোক অমর।

bhai-fota
Bhai Fota Image

ভাইফোঁটার তারিখ (Bhai Fota Date)

ভাই ফোঁটা হিন্দুদের একটি উৎসব। এটি হিন্দু পঞ্জিকা মতে প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় দিনে উদযাপিত হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে শুক্লপক্ষের প্রথম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে।

ভাইফোটা কিভাবে করবেন (Bhai Fota: Method)

ভাইফোঁটা দেওয়ার উপকরণ গুলি হল -
  • সকালে শিশির ভেজা ঘাস থেকে শিশির সংগ্রহ করা।
  • লাল চন্দন সংগ্রহ করা।
  • কুল গাছের কাঁটা সংগ্রহ করা।
  • পান সুপারি সংগ্রহ করা।
  • ফুল সংগ্রহ করা।
  • ধান, দূর্বাঘাস সংগ্রহ করা।
  • মিষ্টি জাতীয় খাবারের আয়োজন করা‌।
ভাইফোঁটার নিয়ম

প্রথমে স্নান করে বোনেরা ভাইদের মাথাই বাম হাত দিয়ে তিনবার ধান-দূর্বা দেয়। এবং বাম হাতের কড়ে (কনিষ্ঠা) আঙ্গুল দিয়ে তাদের কপালে তিনবার চন্দনের ফোটা দেয়, এবং ভাইফোঁটার ছড়াটি বলে

এরপর বোনরা ভাইদের মিষ্টিমুখ করান। বোনেরা ভাইদের প্রতি মঙ্গল কামনা করেন।

সর্বশেষে উভয়ের মধ্যে কিছু উপহার আদান-প্রদান করা হয় উপহার গুলি টাকা বা মূল্যবান দ্রব্য হতে পারে।

ভাইফোঁটা: ইতিহাস (History Of Bhai Fota)

হিন্দুধর্মে ভাইফোঁটা নিয়ে বহু মতবাদ প্রচলিত আছে।
  1. ঋকবেদ মতে - যম ও যমুনার কাহিনী
  2. পুরান মতে - শ্রীকৃষ্ণ ও সুভদ্রার কাহিনী
এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে ভাইফোঁটা প্রচলন হলো অর্থাৎ এর ইতিহাস।

যম ও যমুনার ভাইফোঁটা

ঋক বেদ অনুসারে সূর্য দেবতার যমজ সন্তান হলো যম ও যমুনা।পরবর্তীতে এই যম হল মৃত্যুপুরীর রাজা অর্থাৎ যিনি যমরাজ নামে পরিচিত। কিন্তু বহুদিন যম এবং যমুনার সাক্ষাৎ না হওয়ার কারণে যমুনা যমকে মর্তলোকে আসার আমন্ত্রণ দেন।

যমুনার এই ইচ্ছা পূরণের জন্য যম বোনের বাড়িতে আসেন। অনেক দিন পর ভাইকে কাছে পেয়ে যমুনা তার ভাইয়ের জন্য মিষ্টি, লুচি, পায়েস ইত্যাদি পদের আয়োজন করেন। তারপর ফেরার সময় যমুনা যমকে ফোঁটা পরিয়ে দেয়।

তখন যম খুশি হয়ে বোনকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের এই শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় দিনে যমুনার কাছে ভাইফোঁটা নিতে আসবেন। সেই থেকে রীতি মেনে পৃথিবীতে প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় দিনে ভাইফোঁটার প্রচলন হয়ে থাকে।

শ্রীকৃষ্ণ ও সুভদ্রার ভাইফোঁটা

পুরান মতে নরকাসুর নামে এক কুখ্যাত দৈত্যকে বধ করার পর, যখন শ্রীকৃষ্ণ বিজয় উৎসব করতে করতে তার বোন সুভদ্রার কাছে আসেন। তখন সুভদ্রা কৃষ্ণকে বিজয়ী হিসেবে তার কপালে লাল চন্দনের ফোটা দিয়ে বরণ করেন এবং মিষ্টিমুখ করান। সেই দিনটি ছিল কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় দিন।

ভাইফোঁটার তাৎপর্য (Importance Of Bhai Fota)

প্রত্যেক বোনেরা তাদের দাদা বা ভাইদের দীর্ঘজীবী ও মঙ্গল কামনার জন্য এই ভাইফোঁটা করে থাকে।

Comments